1. admin@dailyjelapost.com : admin :
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদে অবাক কান্ড মিলল, রেকর্ড পরিমাণ টাকা

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২ জুলাই, ২০২২
  • ১৮৩ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক:ডেইলি জেলা পোস্ট

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদদের আটটি লোহার দানবাক্স বা সিন্দুক খোলা হয়েছে। এতে সিন্দুকগুলো থেকে রেকর্ড পরিমাণ ১৬ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।
এবার ৩ মাস ২০ দিন পর আজ শনিবার দানের সিন্দুকগুলো খোলা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) মো. গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, টাকা গণনার কাজে রুপালি ব্যাংকের এজিএম ও অন্যান্য কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।

এর আগে, সর্বশেষ ১২ মার্চ দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন রেকর্ড ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৫ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গিয়েছিল। এবার ৩ মাস ২০ দিন পর দান সিন্দুকগুলো খোলা হলো।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দান সিন্দুক খোলা হয়েছে। দান সিন্দুকগুলো খুলে ১৬টি বস্তায় টাকাগুলো আনা হয়েছে গণনার জন্য। এখন চলছে টাকা গণনার কাজ। দিনভর গণনার পর জানা যায়, সেখানে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ২৭ হাজার ৪ শত ১৫ টাকা পাওয়া যায়।

মসজিদের খতিব, এলাকাবাসী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকজন সূত্রে জানা যায়, এ মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। এমন ধারণা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এখানে দান করে থাকেন।

সূত্র মতে, এক সময় কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝপথে প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতির স্থানটিতে এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বাস ছিল। মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে সব ধর্মের লোকজনের যাতায়াত ছিল ঐ সাধকের আস্তানায়। ঐ পাগল সাধকের দেহাবসানের পর তার উপাসনালয়টিকে কামেল পাগল পীরের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে এলাকাবাসী।

কিন্তু ঐ সাধকের দেহাবসানের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে এলাকা এমনকি দেশের দূর-দূরান্তের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। মানত কিংবা দান খয়রাত করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন বয়সের হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ মানত নিয়ে আসেন এ মসজিদে। তারা নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি দান করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার এ মসজিদে মানত নিয়ে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ঢল নামে। আগতদের মধ্যে মুসলিমদের অধিকাংশই জুমার নামাজ আদায় করেন মসজিদে। আর এ ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরেরও অধিক সময়ের বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Daily Jela Post
Theme Customized By Theme Park BD