1. admin@dailyjelapost.com : admin :
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

স্নৃতি চারণ- তাড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ৩৪৯ বার পঠিত
কলমে- মিজানুর রহমান খান
সংবাদ প্রেরক- ওয়াসিম উদ্দিন সোহাগ
„তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?
আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে
আমি তো এসেছি ‘কমলার দীঘি’ ‘মহুয়ার পালা’ থেকে।
আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরীয়ত থেকে
আমি তো এসেছি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে।„
–        সৈয়দ শামসুল হক
আমার পরিচয়
 আমি তো এসেছি তাড়াইল হাই স্কুল  ৭৬ ব্যাচ থেকে
  –        মিজান (মিজানুর রহমান খান), ১৯৭৬ ব্যাচ, তাড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়
মধুময় স্কুলের দিনগুলির স্মৃতিচারণ :
যে স্মৃতিগুলি কখন ও আলোআঁধারিতে  ঝাপসা হয়ে যায় না
  – স্কুল জীবনের প্রতিটি দিনই অসাধারণ এবং স্মরণীয় এবং বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই তাদের জীবনে কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত স্মৃতির পাতায় আগলে রাখে । আমাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের সময় আমরা স্কুলে না যাওয়ার জন্য যে কোনও ধরণের অজুহাত তৈরি করতাম। আমাদের বাবা-মা বলতেন ‘একদিন তুমি বুঝতে পারবে! ………
  বড় হয়ে ওঠা জীবনটা অসাধারণ কিন্তু আমাদের হাইস্কুলের সময়………….
এই পর্যায়ের সাথে তুলনা করার কিছুই নেই। সেজন্য স্কুলের দিনগুলোকে প্রত্যেকের জন্য সুবর্ণ যুগ বলা হয়।
সত্যিই স্কুলের দিনগুলি উজ্জ্বল দিন।
আর স্কুলের বন্ধুত্বের সারা বিশ্বে একই ভাষা, যেটি মানুষ হওয়ার একান্ত আবিষ্কার।
কয়েকটি  জিনিস আছে  যা স্কুলের দিনগুলিকে স্মরণ করাবেই :
১. বেঞ্চে বসার জায়গা থাকা সত্যেও ধাক্কাধাক্ষী, ঠেলাঠেলি করা
২. পকেটে বুট, কালাই মোটর ভাজা রাখা
৩. পুরো ক্লাসের বস সাজা
৪. ছুটির আবেদন – অনুপস্থিতি, বিলম্ব বা তাড়াতাড়ি পালানোর জন্য:  পরিবার/প্রতিবেশীর  ব্যক্তিগত অসুস্থতার অজুহাত, প্রতিকূল আবহাওয়ার অজুহাত, ইত্যাদি কারণে ছুটির আবেদন
৫. দপ্তরির শেষ ঘন্টা বাজানোর জন্য অপেক্ষা
আমার স্কুলের অনুপস্থিতি বা স্কুল পালানোএবং তার মূল্যবান স্মৃতি
    আমি মিজান (মিজানুর রহমান খান) প্রয়াত মোসলেহ উদ্দিন খান এবং প্রয়াত ইয়াকুত আক্তার খাতুনের কনিষ্ঠ পুত্র, ১৯৬১ সালের ডিসেম্বর মাসে পূর্ব দড়িজাহাঙ্গীরপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করি। আমার পিতা যথাক্রমে ফারসি ও ইংরেজিতে স্বতন্ত্র জ্ঞানে উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন এবং মা ময়নসিংহের বিদ্যাময়ী স্কুল পাশ করা বিদূষী মহিলা ছিলেন যিনি তৎকালীন দড়িজাহাঙ্গীরপুর, দশদ্রোন ও পাচিঁহা এলাকার বিনাপারিশ্রমিকের গৃহশিক্ষিকা ছিলেন এবং চাচা, এযাবত হোসেন খান (ইন্জু মিয়া স্যার)  তাড়াইল  উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই আমি মা র বালিশের নিচ থেকে ঈশ্বর চন্দ্র , বঙ্কিম চন্দ্র, শরৎ চন্দ্র ও অন্নান্য “আউট বই” লুকিয়ে নিয়ে পড়তাম আর আমাকে উদ্ভট কল্পনায় পেয়ে বসতো
„আমি যদি মিজান চন্দ্র হতাম, তাহলে হয়তোবা আমি ও ওদের মতো বিখ্যাত ……….“
” মা, আমি এখন ইউরোপের জার্মান ভাষাবাসী দেশগুলিতে স্বল্প বিখ্যাত হয়েছি, কিন্তু মিজানুর খান হিসাবে কারণ একজন শ্রেষ্ট বাঙালীর  ডায়েরি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারের রোজনামচা) জার্মান ভাষায় আমার অনূদিত বই  জার্মান প্রকাশনা সংস্থা ইউরোপে সাড়ম্বরে প্রদর্শন করেছে আর ইউরোপের জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার গুলিতে অধিগ্রহনের মাধ্যমে। এবং তার সাথে যোগ হয়েছে আমার  জার্মান থেকে ইংরেজিতে  অনুবাদ, “লায়লা: এক বসনীয় কিশোরীর আত্মগাথা”  (সত্য ঘটনা অবলম্বনে জার্মান ভাষার দুই দশকের বেস্টসেলার) যা অস্ট্রিয়ার কনসাল পাবলিকেশন্স দ্বারা প্রকাশিত ও অস্ট্রিয়ায় ফ্যাকাল্টাস প্রেস দ্বারা মুদ্রিত হয়।
    আমি মুক্তিযুদ্দ পরবর্তী ১৯৭২ সাল  থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তাড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের গর্বিত  ছাত্র। যেহেতু স্কুলে ক্লাস সিক্স থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত প্রতিবৎসর, প্রতিক্লাসে ফার্স্টবয় ছিলাম এবং ষান্মাসিক ও বাৎসরিক পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে সৰ্বোচ্চ নম্বর পেতাম তাই স্যারেরা, সোবহান স্যার-প্রধান শিক্ষক, সত্য বাবু স্যার- জীববিদ্যা, হাবিব স্যার – রসায়ন , নুরুল ইসলাম স্যার- ইংরেজি, উজ্জ্বল বাবু স্যার- বাংলা, নাসিরুদ্দিন স্যার- গণিত, গনি মিয়া স্যার – বাংলা ২, ইন্জু মিয়া স্যার-ইংরেজি ২ ও শরীর শিক্ষা, মৌলুভী স্যার- ইসলামিয়াত, পন্ডিত বাবু ( প্রকাশ বাবু) স্যার- সংস্কৃত, সোহরাব  স্যার- পদার্থ  ও  উনার বোন আমার প্রিয় মানুষের একজন মতিজা বেগম – আমার ছায়া শিক্ষিকা  সকলেই আমার দুষ্টামি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতেন।
   কিন্তু তারপরও দুষ্টামি থেমে থাকেনি। প্রতি বিষয়ে সেকেন্ড বয় থেকে ৮/১০ নম্বরের ব্যবধানে সৰ্বোচ্চ নম্বর পেলেও বাঁধ সাধলো “আরবি শিক্ষা ” । প্রিয় সহপাঠী মোস্তফা, আবু তাহের, মানু, মাইনুদ্দিন, মতি, মতিন, আলাউদ্দিন, মাসুম, সুজন, সাইদুর ভাই,…..  দের মাঝে  আবু তাহের আরবিতে সর্বোচ্চ নম্বর আর আমি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর।
হিমাংশু, প্রীতিশ, অতীশ, ঝুলন, সান্তনা ….. রা সংস্কৃত ক্লাসে।
    আমি বয়েসে এবং গঠনে অন্যদের তুলনায় ছোট ছিলাম। সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত হাফপেন্ট আর কেরোলিনের হাফহাতা শার্ট পরে ক্লাস করতাম। আরবি ক্লাসে এই হাফপেন্ট আর হাফহাতা শার্ট পরিহিত, শুধু কিস্তি টুপিটা মাথায় দিয়ে ক্লাসে বসতাম। মনে মনে ভাবতাম, মৌলভী স্যার তো বেঞ্চের নিচে দিয়ে আমার খোলা হাটু দেখবে না। আর স্যার তো অধিকাংশ সময় ক্লাসে ঘুমান। আরবিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর ও `হাফপেন্ট পরে টুপি মাথার` কথা মা কে বলার পর মা বইয়ের ঝুলার ভিতর একটা লুঙ্গি ভাজ করে দিলেন। কিন্তু তাতেও কাজ হলো না। আমি সেই আরবিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর।
   যেহেতু স্বাধীনতা পরবর্তী অষ্টম শ্রেণীতে আরবি/সংস্কৃত আবশ্যিক-ঐচ্ছিক বিষয় ছিল তাই চাচার (ইন্জু মিয়া স্যার) দ্বারস্থ হলাম। ” আমি আরবির পরিবর্তে সংস্কৃত নিতে চাই”. চাচা ব্যবস্থা করলেন। আমি মহা আনন্দে হিমাংশু, প্রীতিশ, অতীশ, ঝুলন, সান্তনা…. দের   সাথে পন্ডিত বাবু স্যারের সংস্কৃত ক্লাসে গেলাম। সংস্কৃততে একবার হিমাংশু প্রথম আমি দ্বিতীয় , আরেকবার আমি প্রথম  হিমাংশু দ্বিতীয়।
  ইন্জু মিয়া স্যার পিটি করাতেন আর পিটি শুরুর আগে ছাত্রদের দিয়ে মাঠের ময়লা পরিষ্কার করাতেন। আমরা বাদামের খোসা, মুড়ি/চানাচুরের ঠোঙ্গা  কুড়িয়ে দপ্তরী মিসির আলী ভাই ও আইনুদ্দিন ভাইয়ের কাছে দিয়ে আসতাম। স্কুল ও স্কুলের মাঠ  টা  পরিষ্কার ঝকঝকে লাগতো।
   আমি যাচিত ভাবে কদাচিৎ স্কুল ফাঁকি দেইনি। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন তো বলে কয়ে আসেনা।  একবার স্কুলের বারান্দায় সরস্বতী পূজা মণ্ডপ বসেছে।  আমি একজন সংস্কৃত বিষয়ের ছাত্র চিন্তা করে সরল মনে বাতাসা, নাড়ু নেয়ার জন্য অন্য হিন্দু ছাত্রদের সাথে পূজার প্রসাদ নেয়ার লাইনে দাড়াই। পুরোহিত বাবু পর্যন্ত প্রায় এসেছি, এমন সময় এক বেরসিক ছাত্র “মিজান, মিজান, মণ্ডপ অশুচি, পূজা নষ্ট ” ইত্যাদি বলে চিৎকার করতে থাকে। হৈ  হুল্লোড় লেগে যায়, পূজা ভেঙে যায়, আর পূজার প্রায় সকলেই আমাকে ধরার জন্য আমার পিছু ধাওয়া করে।  আমি এক দৌড়ে তাড়াইল থেকে দড়িজাহাঙ্গীরপুর বাড়িতে। তারপর উপুর্যুপুরি খবর আসতে থাকে যে পন্ডিত বাবু স্যার জালী বেত নিয়ে আমাকে খুঁজছেন। আমি মা কে না বলে আবার চাচার (ইন্জু মিয়া স্যার) দ্বারস্থ হলাম। চাচা (ইন্জু মিয়া স্যার) পরদিন উনার সাইকেলে বসিয়ে স্কুলে আমার হোস্টেল রুমে দিয়ে আসলেন আর হেড মাস্টার স্যার কে বললেন বিষয়টা দেখার জন্য।
   এখানে উল্লেখ না করলেই নয় যে প্রিটেস্ট পূর্ববর্তী ছাত্রদের জন্য একটি মাত্র হোস্টেল রুম ছিল যেখানে ৪ থেকে ৫ জন থাকতে পারতো। স্কুলের প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকলেই দুপাশে দুটি এল প্যাটার্ন সেমী পাকা বিল্ডিং। ডান দিকের টায় সারি সারি ক্লাসরুম, আর বাম দিকে প্রথম সাইন্স ল্যাবরেটরি রুম, ছাত্রদের হোস্টেল রুম ও টাট্টি ঘর, মাঝখানে ছাদবিহীন টয়লেটে যাওয়ার পিচ্ছিল করিডোর তারপর শিক্ষকদের হোস্টেল, শিক্ষকদের কমন রুম ও হেড মাস্টার স্যারের রুম।
   সারাদিন পন্ডিত বাবু স্যারের দেখা না পেয়ে হাফ ছাড়লাম, কিন্তু সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে শিক্ষকদের হোস্টেলে পন্ডিত বাবু স্যারের পায়ের আওয়াজ পেয়ে বুক কেঁপে উঠলো। বিপদ থেকে বাঁচার জন্য বুদ্ধি করলাম যে রাতে দরজার পাশে কাঁথা বিছিয়ে, হারিকেন ডিম্ করে শুয়ে থাকার, কখন স্যার টয়লেটে যায়। মাঝরাতে স্যারের পায়ের আওয়াজ পেলাম যে স্যার টয়লেটে যাচ্ছে আর তখনই দরজার নিচ দিয়ে গলা ফাটিয়ে কুকুরের আওয়াজ দিলাম ” ঘেউ, ঘেউ…” টয়লেটে যাওয়ার পিচ্ছিল করিডোরে একটা প্রচণ্ড শব্দ পেলাম, “ধপাশ”
পরদিন পন্ডিত বাবু স্যার কোমরের ব্যথা নিয়ে বাড়ি চলে গেলেন আর আমিও সংস্কৃত ছেড়ে আবার আরবি ক্লাসে ফেরত আসলাম।
   স্বগত প্রতিভার যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ থাকলেও, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে মোস্তফা, আমার স্কুলের শ্রেষ্ট বন্ধু। সে একজন শান্ত, সংবেদনশীল ছেলে ছিল এবং গভীর চিন্তা করতে সক্ষম ছিল। আর আমার কল্পনার সঙ্গে একটি আলাপচারী ছাগলছানা ছিল। আমরা বন্ধু হলাম। ওরা আমার  আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং আমার কল্পনাকে ডানা দিয়েছে, আমার বিশ্বের জানালা হয়ে ওঠেছে।
   আমি বিশ্বাস করতাম মহাত্মা গান্ধী দুটি ছাগল পালন করে অসহযোগ আন্দোলন ও তদ্রুপ দশটি বিশ্ব বিখ্যাত বই লিখেছেন, যা পশ্চিমা বিশ্বেও সমাদৃত। কিন্তু দাঙ্গা দমনে নোয়াখালী এসে তিনি নিজের ছাগলটাও হারিয়েছিলেন। একদল প্রচার করে যে রাতে গান্ধীর ছাগল চুরি করে এবং জবাই করে রান্না করে। এতে নোয়াখালী হেয় হয়। কিন্তু আমার অবগতিতে তখন হেমন্ত কাল ছিল, হেমন্ত কালে ছাগীর প্রজনন সময়ে ছাগীরা দড়ি ছিড়ে পালিয়ে যায়।
  তারপর অনেক বছর স্কুলের সাথে যোগাযোগ নেই
  আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৫ সালে আইনে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর স্টাডি স্কলারশিপ নিয়ে অস্ট্রিয়া চলে আসার পূর্বে স্যারদের দোয়া নেয়ার জন্য স্কুলে গিয়েছিলাম। সে এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতি, এখানে উল্লেখ নাই করলাম। শুধু বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুন্ডলা’ র পংক্তিটি  মনে পড়লো “পথিক, তুমি কি পথ হারাইয়াছ? এ ধ্বনি কর্ণে প্রবেশ করিল। কি অর্থ, কি উত্তর করিতে হইবে, কিছুই মনে হইল না। ধ্বনি যেন হর্ষবিকম্পিত হইয়া বেড়াইতে লাগিল; যেন পবনে সেই ধ্বনি বহিল; বৃক্ষপত্রে মর্মারিত হইতে লাগিল; সাগরনাদে যেন মন্দীভূত হইতে লাগিল।”
  আর পরিবার থেকে বিদায় ক্ষণ তো ” চন্দ্রাবতী (জন্ম: নীলগঞ্জ, আনুমানিক ১৫৫০ সাল ভারত বর্ষের প্রথম মহিলা কবি)” র পালা সম –
“আশমান ছাইল কালা মেঘে দেওয়ায় ডাকে বইয়া
আর কত কাল থাকবে যাদু ঘরের মাঝে শুইয়া|
মন্দ্যান্যা আইশনারে পানি ভাটি বাইয়া যায়
পুত্রেরে শিগার দিয়া পাগল হইল মায়।
মায়ে কান্দে পুতে কান্দে সিরে দিয়ে হাত
মায়ের আক্ষির জলে বুক যায়রে নিপাত।“
  সে থেকেই আজ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৭ বছর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পরবাসে বসবাস
 ১৯৯১ সালে অস্ট্রিয়ার  সরকারি চাকরিতে যোগদানের আগে ১৯৮৯ সালে  জাতিসংঘের জনসংখ্যা কার্যক্রম, নিউ ইয়র্ক এ  ছয় মাস কাজ করি।  ১৯৯১-২০০১পর্যন্ত অস্ট্রিয়ান পেটেন্ট অফিসে,  তারপর ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অস্ট্রিয়ান শিক্ষা গবেষণায়  কাজ করে এই উপলদ্বি ” পৃথিবীর সব দেশেই সরকারি চাকুরী জীবিদের জীবন-সাধ আর সাধ্যের মাঝে খেলা করে অতিবাহিত হয় “
 তারপর ও পুত্র,কন্যা, সরকার চাকরিতেই যোগদান করেছে। কন্যা, বার্নিমা খান  আইনবিদ হিসাবে  ভিয়েনা প্রাদেশিক সরকারে কর্মরত এবং  পুত্র, প্রাঞ্জল খান, আইটি-কো-অর্ডিনেটর হিসাবে ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। কিন্তু আমার নিজস্ব জীবন দর্শন: “যদিও সন্তুষ্টি একটি আপেক্ষিক প্রশ্ন, তবুও আলাহ  যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট” (আল্লাহর শুকরিয়া)
   দীর্ঘ ৩৭ বছর পর এবার ঈদুল আজহার আগের দিন প্রিয় স্কুলে আসি। স্কুলে পা দেয়ার সাথে সাথে কেমন একটা অবসাদ বোধ হয় আর মৈত্রেয়ী দেবী র “ন হন্যতে”
মনে আওড়াই
 রম্যাণি বীক্ষ্য মধুরাংশ্চ নিশম্য শব্দান্‌’ ‘পযুৎসুকী ভবতি যৎ সুখিতোহপি জন্তুঃ’
যে রকম মন ব্যাকুল হয়, জননান্তর সৌহৃদানি মনে পড়ে… এ তো জন্মান্তরের কথা নয়… এ তো এই সে দিনের কথা, মাত্র বেয়াল্লিশ বছর আগের কথা। মাত্র বেয়াল্লিশ বছর আমি পার হয়ে ফিরে গেছি …কিন্তু আজ হঠাৎ বেয়াল্লিশ বছরের গণ্ডী সে তুলে নিয়েছে…“
আমি স্থির ধ্রুব দাঁড়িয়ে আছি এই ২০২২ -এ পা রেখেও ১৯৭৬ সালে।
স্নৃতি চারণে-
মিজানুর রহমান খান ( মিজান)
 ডি পি কমিশনার, পূর্ব ইউরোপীয় গবেষণা বিভাগ, অস্ট্রিয়া, যুগ্ন সচিব,অস্ট্রিয়ান ফেডারেল সার্ভিস

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Daily Jela Post
Theme Customized By Theme Park BD